বিয়ানীবাজার পিএইচজি সরকারি হাইস্কুল মাঠে ফুলতলী পীর সাহেব হযরত আল্লামা আব্দুল লতিফ চৌধুরী ফুলতলী (রহ.)-এর অনুসারীদের উদ্যোগে প্রায় ২৯ বছর ধরে চলে আসা ৩ দিনব্যাপী তাফসীরুল কুরআন মাহফিল সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এই ঐতিহ্যবাহী মাহফিলে দেশের খ্যাতনামা আলেম-উলামা ও মুফাসসিরগণ অংশ নিয়ে কুরআনের বাণী প্রচার করেছেন। হাজারো মুসল্লির উপস্থিতিতে মাহফিলটি ঈমানী পরিবেশে পূর্ণতা পেয়েছে।
কিন্তু সমাপনী দিনে মুফতি ড. সরকার কাফিল উদ্দিন সালেহী সাহেবের উপস্থিতি ও তাফসীর পেশ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক অপপ্রচার ও বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। তাঁকে মঞ্চে উঠতে না দেওয়া বা বয়ান করতে না পারার ঘটনাকে কেন্দ্র করে কিছু কুচক্রী মহল গুজব ছড়াচ্ছে।
সূত্রমতে, মুফতি কাফিল উদ্দিন সালেহীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল, কিন্তু তাঁর পূর্ববর্তী বিতর্কিত বক্তব্য—প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে 'জান্নাতি মানুষ' বলে অভিহিত করা—জনসাধারণের মধ্যে তীব্র ঘৃণা ও অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে। এই কারণে বিয়ানীবাজার প্রশাসন ও সাধারণ মুসল্লিরা তাঁকে মঞ্চে প্রবেশ করতে দেননি। এটি স্পষ্ট যে, এমন বক্তব্যের পর তিনি জনসাধারণের ঘৃণার পাত্রে পরিণত হয়েছেন, যা ধর্মীয় মাহফিলের মতো পবিত্র অনুষ্ঠানে তাঁর উপস্থিতিকে অসম্ভব করে তুলেছে।
এই ঘটনার জন্য আয়োজক পরিচালনা কমিটির উপরও দোষারোপ করা হচ্ছে। কমিটি জেনে-শুনে এমন একজন বিতর্কিত ব্যক্তিকে আমন্ত্রণ জানিয়ে মাহফিলের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিঘ্নিত করেছে। এলাকাবাসী ও অংশগ্রহণকারীদের মতে, কমিটির এই ভুল সিদ্ধান্তের কারণে অসন্তোষ ছড়িয়েছে এবং মাহফিলের ইতিবাচকতা ক্ষুণ্ন হয়েছে।
অনলাইনে কিছু মহল এই ঘটনাকে জামায়াতে ইসলামী বা অন্য গোষ্ঠীর হস্তক্ষেপ বলে অপপ্রচার চালাচ্ছে। কিন্তু এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা। জামায়াতের সাথে এই ঘটনার কোনো যোগসূত্র নেই। এটি শুধুমাত্র মুফতি সাহেবের বিতর্কিত অতীত বক্তব্য এবং জনসাধারণের স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিক্রিয়ার ফল। এমন অপপ্রচারের উদ্দেশ্য ধর্মীয় মাহফিলকে রাজনৈতিকভাবে কলুষিত করা।
ফুলতলী অনুসারী ও সচেতন মহল সকলকে আহ্বান জানিয়েছেন যেন এ ধরনের গুজব, বিভ্রান্তি ও অপপ্রচারে কান না দিয়ে ইসলামের খেদমত ও কুরআনের শিক্ষা প্রচারে ঐক্যবদ্ধ থাকেন। মাহফিলটি ইসলামী শিক্ষা, ঐক্য ও ভ্রাতৃত্বের এক অনন্য মিলনমেলা হিসেবে অব্যাহত রয়েছে। সকলে এ ধরনের ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে ইসলামের খেদমতে অবদান রাখুন।