সিলেট, ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬: সিলেট-৬ (গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার) আসনের বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরীর বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি আপত্তিকর ভিডিও নিয়ে তীব্র ঝড় উঠেছে। ভিডিওটিতে তাকে অশ্লীল কথোপকথন ও আচরণে জড়িত দেখা যাচ্ছে বলে দাবি করা হচ্ছে। এই ঘটনার জেরে বিএনপির অভ্যন্তরে ব্যাপক ক্ষোভ ও সমালোচনার ঝড় বয়ে যাচ্ছে। দলীয় সূত্র থেকে জানা গেছে, রাতের মধ্যেই তিনি দেশ ছেড়ে পালাতে পারেন।
বিএনপির একাধিক নেতা-কর্মী ও ঘনিষ্ঠ সূত্রের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পুরো দলের অভ্যন্তরে এমরান আহমদ চৌধুরীকে নিয়ে খুব ধুয়ে দেওয়া হচ্ছে। দলের হাইকমান্ড থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যন্ত সবাই এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ। বিশেষ করে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান নিজে খুব ঝাড়ি দিচ্ছেন বলে অভ্যন্তরীণ সূত্র জানিয়েছে। একজন উচ্চপদস্থ নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “এমন একটা ভিডিও নির্বাচনের মুখে দলের ভাবমূর্তি একেবারে ধ্বংস করে দিয়েছে। তারেক ভাই খুব রেগে আছেন, বলছেন এমন লোককে মনোনয়ন দেওয়া আমাদের ভুল ছিল।”
দলীয় সূত্র আরও জানায়, এই ভিডিওর কারণে এমরান আহমদ চৌধুরী ভোটের মাঠ থেকে একেবারে ছিটকে পড়ছেন। স্থানীয় নেতা-কর্মীরা তার সঙ্গে দূরত্ব বাড়াচ্ছেন, অনেকে প্রকাশ্যে সমর্থন প্রত্যাহারের কথা বলছেন। একজন স্থানীয় বিএনপি নেতা বলেন, “এখন আর তার পক্ষে প্রচারণা করা সম্ভব নয়। দলের ভাবমূর্তি বাঁচাতে হলে তাকে সরে যেতে হবে, না হলে পুরো আসনেই ধানের শীষের সম্ভাবনা শেষ।”
এদিকে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা এই ভিডিওটিকে ব্যাপকভাবে শেয়ার করে প্রচারণা চালাচ্ছেন। অনেকে দাবি করছেন যে, এটি প্রার্থীর ব্যক্তিগত চরিত্রের স্পষ্ট প্রমাণ। অন্যদিকে এমরান আহমদ চৌধুরীর কয়েকজন অনুগত সমর্থক এখনো এটিকে “ডিপফেক বা ষড়যন্ত্র” বলে দাবি করছেন, তবে দলের অভ্যন্তরীণ চাপের কারণে তাদের কণ্ঠস্বর দুর্বল হয়ে পড়েছে।
এ ব্যাপারে অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তার একজন ঘনিষ্ঠ সহযোগী জানান, “পরিস্থিতি খুব খারাপ। আইনি পদক্ষেপের চিন্তা চলছে, কিন্তু দলের চাপে তিনি হয়তো রাতেই দেশ ছাড়বেন। তারেক রহমানের নির্দেশের অপেক্ষায় আছেন।”
সিলেট-৬ আসনে আসন্ন নির্বাচনে ধানের শীষের পাশাপাশি জামায়াতে ইসলামীসহ অন্যান্য প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ভাইরাল ভিডিওর ঘটনা বিএনপির জন্য বড় ধাক্কা। এটি শুধু একটি আসন নয়, পুরো দলের ভাবমূর্তিতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো পদক্ষেপ এখনো দৃশ্যমান হয়নি। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।