ঢাকা/সিলেট, ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬: জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব সিলেট-৬ (গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার) আসনে বিএনপি-জমিয়ত জোটের মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী (ধানের শীষ)-এর পক্ষে কাজ করার নির্দেশ দিলেও তৃণমূল পর্যায়ের অনেক নেতা-কর্মীর মধ্যে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। দলের প্রাক্তন নেতা ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হাফিজ মাওলানা মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম (হেলিকপ্টার প্রতীক)-এর প্রতি স্থানীয় সমর্থনের কারণে এই অসন্তোষ আরও তীব্র হয়েছে।
দলের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে যে, জোটের মনোনীত প্রার্থীর বাইরে গিয়ে ফখরুল ইসলামের পক্ষে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কাজ করলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্তু স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজারের অনেক মাদ্রাসা-মসজিদভিত্তিক কর্মী এবং তৃণমূল নেতা ফখরুল ইসলামকে দীর্ঘদিনের পরিচিত ও ধর্মীয়-সামাজিক কাজের সঙ্গে যুক্ত দেখে তার পক্ষে মনোনয়ন সংগ্রহ, মিছিল-মোটরশোভাযাত্রা এবং প্রচারণায় সক্রিয় অংশ নিচ্ছেন।
একাধিক স্থানীয় কর্মী (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) জানান, “হুজুর (ফখরুল ইসলাম) এলাকায় অনেক মানুষের কাছে পরিচিত, তার সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক। কেন্দ্র থেকে জোটের প্রার্থীকে সমর্থনের নির্দেশ এলেও তৃণমূলে অনেকে মেনে নিতে পারছেন না। এতে দলের ভেতর বিভক্তি তৈরি হচ্ছে।” কেউ কেউ বলছেন, এই নির্দেশ দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য হলেও স্থানীয়ভাবে ফখরুল ইসলামের প্রতি আনুগত্যের কারণে ক্ষোভ বাড়ছে এবং কেউ কেউ গোপনে তার পক্ষে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
অন্যদিকে, জমিয়তের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব দলীয় ঐক্য ও জোটের সিদ্ধান্ত মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, শৃঙ্খলা ভঙ্গ করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে তৃণমূলের এই ক্ষোভ নির্বাচনী প্রচারণায় জোট প্রার্থীর জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।
উল্লেখ্য, সিলেট-৬ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপি-জমিয়ত জোটের অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী (ধানের শীষ), জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন (দাঁড়িপাল্লা), স্বতন্ত্র প্রার্থী হাফিজ মাওলানা মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম (হেলিকপ্টার)সহ অন্যান্যরা। জমিয়তের এই অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে কি না, তা এখন দেখার বিষয়।