সিলেট-৬ (গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার) সংসদীয় আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণা তুঙ্গে। এ আসনে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের অবস্থান নিয়ে স্পষ্ট দ্বিধা ও বিভ্রান্তি দেখা যাচ্ছে। দলটির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বিএনপি-জমিয়ত জোটের মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী কে সমর্থনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং স্থানীয় নেতা-কর্মীদের জোট প্রার্থীকে বিজয়ী করার নির্দেশ দিয়েছে।
কিন্তু দলের স্থানীয় একাংশ, বিশেষ করে কওমি অঙ্গনের আলেম-উলামা, মাদ্রাসা শিক্ষক ও নেতাকর্মীদের মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী হাফিজ মাওলানা মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম প্রতি সমর্থন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার এলাকায় রাতের বেলায় হেলিকপ্টার মার্কার সমর্থকদের মিছিল, জনসভা ও মটরশোভাযাত্রা হয়েছে। মিছিলে জমিয়তের অনেক নেতা-কর্মী, আলেম ও মাদ্রাসা শিক্ষক অংশ নিয়ে ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে “হেলিকপ্টার মার্কার সমর্থনে জনসভা” ও “সফল হোক হেলিকপ্টার” স্লোগান দিয়েছেন।
জমিয়তের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব স্পষ্ট বিবৃতি দিয়েছে যে, দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিএনপি-জমিয়ত জোটের প্রার্থীকে সমর্থন করতে হবে। স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে কাজ করলে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবুও স্থানীয় পর্যায়ে হেলিকপ্টারের প্রচার অব্যাহত রয়েছে, যা দলের অভ্যন্তরীণ বিভেদের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
স্থানীয় রাজনৈতিক মহল, সোশ্যাল মিডিয়া ও কওমি অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনা চলছে যে, জমিয়তের এই দ্বৈত নীতি মুনাফেকি (দ্বিমুখী বা ভণ্ডামি) আচরণের নমুনা। কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব একদিকে জোট রক্ষা ও দলীয় ঐক্যের কথা বলছে, অন্যদিকে স্থানীয়ভাবে দলের একটা বড় অংশ হেলিকপ্টার মার্কার পক্ষে খোলাখুলি প্রচার চালাচ্ছে। সমালোচকরা বলছেন, যদি দলীয় শৃঙ্খলা ও নির্দেশ মানা হতো তাহলে স্থানীয় পর্যায়ে এত বড় আকারে বিপরীত প্রচার চলতো না। এতে দলের অভ্যন্তরীণ ঐক্যের প্রতি অসম্মান হচ্ছে এবং ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়ছে।
এদিকে কওমি অঙ্গনের প্রভাবশালী আলেম আল্লামা মামুনুল হক সিলেট-৬ আসনে জামায়াত-জোটের প্রার্থী মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন (দাঁড়িপাল্লা প্রতীক)-কে সমর্থন জানিয়েছেন। ফলে কওমি মাদ্রাসা সমর্থিত বেশিরভাগ ভোট দাঁড়িপাল্লায় পড়তে পারে বলে স্থানীয় মহলে আলোচনা চলছে।
তবে এই ধরণের দ্বৈত পরিস্থিতি দলের ঐক্য, ভোটের ফলাফল ও ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তির উপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে।